
জন্মদিবস, একটা নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় দিন প্রতিবছর একবার করে এসে জানান দিবে, আমি নতজানু হওয়ার পথে, আমার যৌবন, চাহিদা, ক্ষুধা সব কমে আসছে, আর অমরত্ত্ব বলে কিছু নেই, যা জানো স্পষ্টত ভুল।
গত দুবছর আমি সব জন্মদিনে ২০২১ সনে থাকতে চাই। আমি চাইনা বয়সটা আর বাড়ুক, চাপ, দায়িত্ববোধ আর িকছু এসে খালি পরিত্যাক্ত মাথাটায় ভর করুক।
আচ্ছা, মানুষ ক’বছর বাঁচার স্বপ্ন দেখে? উত্তরটা নাই, ভিন্ন মত থাকতে পারে। স্বপ্ন কেন দেখে সেটাই বিজ্ঞান জানেনা। স্বপ্নের বিষয়ে যে গবেষণা তাকে বলে ওনায়োরলোজি। সুন্দর চমৎকার শব্দ। সিগমুড ফ্রয়েড বলে, আমাদের কিছু অবদমিত ইচ্ছে আছে। সেটার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে স্বপ্ন। ইদানিং আমি কিছু নিয়েই স্বপ্ন দেখিনা। তাহলে কি অবদমিত ইচ্ছে কমে গেল?
তবে প্রত্যেক জন্মদিনে আমি স্বপ্ন দেখি, আমি ২৫ শে আটকে গেসি। আমি স্বপ্ন দেখি, খটখট করে একটা মোটরকার এসে থামল। ভেতরে কেউ নেই। আমি স্বপ্ন দেখি, একটা গলা কাটা চড়ুই লাফাচ্ছে।
জন্মদিনে এসব বলার মাহাত্ব্য কি?
কিছুইনা।
বকবক করা কিছুক্ষণ।
জীবনে যা হবার ইচ্ছে, আর যা হচ্ছি- দুটোর ভেতর কোনরকম সম্পর্ক না থেকে অদ্ভুত এক মোটকারের পেছনে ছুটছি যার কোন চালক নাই। আমি এই আশা নিরাশার দোলাচলে বয়ে চলা জীবনের গল্প কাকে বলব? কাকে বললে, সেও বলবেনা যে জীবন ফড়িং এর, তার সাথে হয়নাকো দেখা?
আমি কবিতা হতে চাই, এমন কবিতা, আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে থাকে, ভয়ঙকর ভাবে হুতাশনের গল্প শুনায় না, যে কবিতা শুধু বলে যায়,
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
জন্মদিবসের শুভেচ্ছা, নিজেকে