
Country roads, take me home
ভিলনিয়াস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন নামি, তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। ইমিগ্রেশন শেষ করে যখন বের হলাম, পৃথিবীর সব শূন্যতা নেমে এসেছিল। বুক ভারী হয়ে গেছিলো। আমি আমার পরিচিত জগত ছেড়ে কোথায় এসেছি? আমার পরিচিত, অপরিচিত যাদের কথা শুনলেই বুঝতাম, তারা কেউ নেই।
পরিচিত, স্বল্প পরিচিত কিংবা অপরিচিত পরিবেশ রেখে আমি সরাসরি ঢুকলাম অপরিচিতদের ভীড়ে। যাদের শুনি, বুঝিনা। যাদের দেখি, ডাকিনা। একটা বাচ্চা যখন হারিয়ে যায়, তখন কেমন অনুভূতি জন্ম নেয়, তৎখানিক সময়ে মনে হলো আমি হারিয়ে গেছি।
পূর্ব পরিচিত ফাহিম ভাই রিসিভ করে ডর্মে নিয়ে আসলেন। ভেতরে শত প্রশ্ন জমা হয়ে আছে, করব কি করব না, আমি এখানে ঘুছিয়ে উঠবো কিনা, আমার মনে হলো, আমি ফিরে যাই। আমি জাস্ট ফিরে যাই। আমার ৯-৫টার চাকুরি, কাঁচা রাস্তার চা, মন চাইলে রাত বিরেতে কিছু খাওয়া, আমার সব আনন্দ পড়ে রইল চিটাগাং এর বাসায়। শুধু ৬৫ কেজি ওজনের শরীরটা ভিলনিয়াস শহরে গত ১ সপ্তাহ ভালো থাকার চেষ্টা করছে।
ডর্মের যেই রুমে সিটটা পেলাম সেইটায় আমার রুমমেট হলো মরোক্কোর এক ছেলে। যাকে গত সপ্তাহে আমি দেখিনি। অদ্ভুত রুম সেটাপ, ড্রাগের চিহ্ন পাওয়া, ফ্রিজ ভর্তি ডিম মাংশ, ওয়াশরুমে নিজের মত করে ছবি পুতুল লাগানো, এই মনে হয় যতক্ষণ বাইরে আছি শান্তি। আমি জানি সময়ের সাথে অনেক কিছুই ঠিক হবে, মন শক্ত হয়, পরিচিতি বাড়ে। কিন্তু এইযে পৃথিবী বেড়ানোর যে ইচ্ছে, আপাতত মনে হয়ে সেটা থেকে সবচেয়ে বড় জিনিশ, মায়ের হাত বানানো এক কাপ চা খেয়ে আয়েশ করা।
ভিলনিয়াস শহরে সবই পাওয়া যায়, সবাইকে দেখা যায়, আয়েশ করা যায়, শুধু মায়ের হাতে এক কাপ চা পাওয়া যায়না, পরিচিতদের ভীড় পাওয়া যায়না, আপন মানুষদের পদচারণা দেখা যায়না।
জন ডেনভারের হয়তো এভাবেই অনুভব করে, এয়ারপোর্টে বসে লিখেছিলেন-
Country roads, take me home
To the place I belong. ...
Destinations