
মিলান শহরকে আমি প্রথম দেখেছিলাম এক ঠান্ডা ডিসেম্বর। যে সময় পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষও একটু ধীর হয়ে হাঁটে। মিলান তো সারাবছরই ফ্যাশন, ডিজাইন, ব্যবসা সবকিছু নিয়ে এমন দৌড়ায় যে মনে হয় শহর নিজেই ট্রাম লাইনের ওপর দিয়ে চলেছে। কিন্তু ক্রিসমাস এলেই সেই দৌড় যেন একটু থেমে গাঢ় শীতে গা এলিয়ে দেয়। চা
ডুওমো স্কোয়ারে পৌঁছোতেই বুঝলাম, মিলানের উৎসব শুরু হয় এখান থেকেই। চতুর্দশ শতকের সেই বিরাট ক্যাথেড্রালটাকে দেখতে দেখতে মনে হলো, এ তো কেবল গির্জা নয়, এক বিশাল পাথরের সিম্ফনি। তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ক্রিসমাস ট্রি, এত আলোয় সাজানো যে মনে হয় তারারাই নেমে এসে শহরের কাজ নিয়ে নিয়েছে। মিলানবাসীরা ট্রির নিচে ভিড় করে; কেউ ছবি তোলে, কেউ ‘পানেটোনে’ কেক চিবোতে চিবোতে মনে মনে ছুটি কতদিন বাড়ানো যায় হিসাব করছে।
অফিসপাড়া অবশ্য আলাদা গল্প। ছুটির আগের সপ্তাহে অর্ধেক মানুষই কাজের চেয়ে কোথায় ছুটি কাটাবে সেটাই ঠিক করে। ফলে ট্রামে জায়গা পাওয়া যায়, ক্যাফেতে বারিস্টা ‘বুয়োনা নাতালে’ বলে অতিরিক্ত হাসি দেয়, যা সাধারণ দিনে স্বপ্নের মতই।
তুষার মিলানে কৃপণতা করলেও শীতের বাতাসে উৎসবের গন্ধ থাকে। আলো জ্বলা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়; এই শহরটা একদিকে কাজের চাপে ক্লান্ত, আরেকদিকে উৎসবে এমনই প্রাণবন্ত যে তাকে যেন দু’বার দেখার লোভ সামলানো যায় না।
মিলানের ক্রিসমাস তাই কেবল সাজসজ্জার বিষয় নয়, এ শহর বছরে একবার তার ব্যস্ত মনটাকে খুলে মানুষের মতো হয়ে ওঠে। আর দিনের শেষে, ভিড়ভাট্টা পেরিয়ে শান্ত কোনো রাস্তায় দাঁড়ালে মনে হয়, মিলানের ক্রিসমাস আসলে আলোর উৎসবের থেকেও বেশি একটা অনুভূতি মিলানের ব্যস্ত মানুষজনের জন্য।