
সের্জিও রামোস একটা ইতিহাস হয়ে থেকে যাবেন আজ থেকে রেয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে। মানুষ হিসেবে কখনো কখনো আমাদের মেনে নিতে হয় নির্মম ছেড়ে যাওয়া গুলো। রক্ষণভাগের সংজ্ঞা সের্জিও লিখেছেন নতুন করে। কৌশল, বুদ্ধিমত্ত্বার বাইরে শারীরিক ফুটবল, কখনো ঘৃণার পাত্র প্রতিপক্ষের কাছে।
রেয়াল মাদ্রিদের ভক্তকুলে সের্জিও আরো একটা তীব্র স্পন্দনের নাম। যার হাতে ক্যাপ্টেন আর্মব্যান্ড মানায়, মনে হত সাদা সফেদ জার্সিটা শুধু তার জন্য; সান্তিয়াগো বার্ণাব্যুতে হাত নেড়ে হাজার দর্শকের সামনের বিদায় নিচ্ছেন, যেমনটা জিদান, রাউল, আরবেওলা নিয়েছেন। ব্যবসায়িক প্রতিপত্তের কাছে আবেগ নস্যি, কিংবা জেদের কাছে কখনো কখনো হেরে যায় দীর্ঘ একটা সম্পর্ক।
ক্যারিয়ার কতটা বর্ণিল এল কাপিতানোর সেটা তো সবাই জানে! যেটা জানেনা সেটা হচ্ছে সের্জিও রামোস কি কাঁদছেন এখন? নাকি সিন্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ভাবছেন? নাকি আক্ষেপের সমুদ্রে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন? সের্জিও রামোস কখনো হয়তো ডাগ আউটে আসবেন মাদ্রিদের, সেদিন উচ্ছ্বসিত হব। হয়তো লা ডেসিমার সেই বিরানব্বই মিনিটের হেডের থেকে বেশি! আপাতত লা ডেসিমার স্মৃতি কাঁদাবে। প্রতিটা ম্যাচ উইনিং ট্যাকেল কাঁদাবে, প্রতিটি হেডের গোল কিংবা দীর্ঘ ফ্রি কিক থেকো গোল খরা থেকে মুক্তির সেই ফ্রি কিক গোল কাঁদাবে।
সের্জিও রামোস একজন, যে কিনা সবচেয়ে ঘৃণার পাত্র প্রতিপক্ষের কাছে কিন্তু এমন নেতা যার নেতৃত্ব সবার চায়, যার আগ্রাসন সবার দরকার।

বিদায় সের্জিও রামোস, সাদা জার্সি আপনাকে অনুভব করবে, নতুন বার্ণাব্যু আপনাকে অনুভব করবে, বিশাল মাদ্রিদ পরিবার আপনার নেতৃত্ব নতুন করে প্রতিটি খেলায় খুঁজবে।
আপনি চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে
আমার না-থাকা জুড়ে।