
আব্বার সাথে শেষ সাক্ষাৎ এর বয়স ১৩ বছর পূর্ণ হয়ে গেলো আজ। আব্বা দেখতে কেমন, ছবির কল্যাণে মনে থাকলেও, আব্বা ডাকতো কেমন, আমি ভুলে যাচ্ছি। আমি বহুবার মনে করার চেষ্টা করছিলাম, আমি পারিনাই।
খুব বুক চেপে কান্না যেমন আসে, অমন অনুভূতি হইতেছে। আমি আব্বার শব্দ ভুলে যাচ্ছি। আমাকে খুব আদর করে মাঝে মাঝে শ্রীমাণ ডাকতো, সেই আদুরে গলা ভুলে যাচ্ছি। সেই ‘শ্রীমাণ’ শব্দটা মনে আছে, কিন্তু শব্দটার ভেতরে যে মানুষটার গলা ছিল, সেই গলাটা আর ঠিকমতো মনে করতে পারি না। কিছু হলেই ডাকলে, উত্তর আসতো, আব্বা বলো। এই বাপের শব্দ ভুলে যাওয়ার মত যন্ত্রণা আর নেই।
আমি আজকে যেমন, এই যে কিছুটা এলোমেলো, যেখানে যাবার মন চায় চলে যাওয়া, যা করার মন চায় করে ফেলা, এই পুরোটুকুন আমি আব্বা থেকে পাইছি। এই সাহস, এই উড়নচন্ডী যা কিছু, পৃথিবীর সবচেয়ে কুল বাপ ছিলো, আমার বাপ।
আমি কি হইতে যাইতেছি, কি হইবো এটার আমার জীবনে কখনোই প্রাসঙ্গিক করতে পারিনাই, আব্বা চলে যাবার পর। শুধু মনে হইতো, আমার ইচ্ছেয় যা করছি, সেটায় উনার সম্মতি আছে। তবে, জীবনে যা স্বপ্ন, সব দেখাইছে আব্বা।
আজকে ১৩ বছর, আমার বাপ এই দুনিয়ার বুকে নাই।
এই ১৩ বছরে, আব্বাকে আমার প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজন হয়তো ছিলনা, কিন্তু আমার প্রতিটা পদক্ষেপে যেই প্রভাব সেইটা আমি কারো থেকে পাইনাই।
আমি এখন উনারে পাইনা,
কোনভাবেই পাইনা,
স্বপ্নে পাইনা,
কথায়, আদরে, কোথাও পাইনা।
গতবার দেশে যাবার পর, কবরের আগাছা পরিষ্কার করেছি। আমি না থাকলে, আমার আব্বার কবরটা জঞ্জাল হইয়া থাকে। দাদী আর বাপেরে খুব কাছাকাছি রেখে আসছি, আমার হাতে।
এই ৯ ই সেপ্টেম্বর শুরুতেই আমি বাপহারা হইয়া যাবো এটা হয়তো উপরওয়ালা লিখে রাখছেন, সেই লেখা মেনে নিয়েছি।
মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে তর্ক করে কতদূর যাবে? কিন্তু আমি এমন কন্ঠ ভুইলা যাবো, এমন তো কথা ছিলনা, ই য়া খোদা।
আল্লাহ, আপনি আমার আব্বারে আপনার রহমতের চাদরে মুড়াইয়া রাখেন, কোন কষ্ট দিয়েন না।