aabirchowdhury

ভিলনিয়াসের যাপিত জীবন

The Republic of Užupis: একটা শহরের ভেতরেই পুর্ণাঙ্গ একটা দেশের গল্প

A clean, minimalist workspace with a single laptop showing a code editor and a green 'success' terminal.

ভিলনিয়াসের ইসলামিক সেন্টারে জুমুআ হয়। আমরা সেখানেই জুমুআ পড়ি। সপ্তাহে এই একটা দিন জামাআতে পড়ার সুযোগ হয়। বাকিগুলো বাসায়। এই জুমুআর দিন আসলেই মনটা খারাপ হয়। আসার আগে জুমুআগুলো পড়েছি খুলশী হিল জামে মসজিদ, রেলওয়ে এবং পীর আলী শাহ মসজিদে। এখানে মসজিদ পরিবর্তনের সুযোগ নে়ই। আছেই শুধু ভিলনিয়াস ইসলামিক সেন্টার, যেখানে অনেক মানুষ একত্রিত হয়।

তবে জিলাপি, বিরিয়ানির আয়োজন নাই। মাঝে মাঝে ইন্ডিয়ান একটা ছেলে খেজুর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। খুব আগ্রহ নিয়ে সবাই ইচ্ছেমত খেজুর নেয়। কিন্তু খেজুর খেতে খেতে নামাজ শেষ করে যেই আড্ডা দেশে দিতাম সেটার সুযোগ নেই।

নামাজ শেষ করে দৌঁড়াই হালাল মার্কেটে। পুরো সপ্তাহের জন‍্য মুরগী, গরুর মাংশ কিনে ৯০০ মিটার হেঁটে বাস স্টপেজ। বাসায় ফিরে প্রথম কাজ হয় পুরো গায়ে জড়ানো ভারী জ‍্যাকেটগুলো খোলা।

ভিলনিয়াসে পা দিয়েছি আজ ২৫ দিন, এই অল্প দিনে কোথাও ঘুরতে যাইনি বললেই চলে। এর ভেতর বাসা নিয়েছি ওল্ড টাউনেই। এদের কৃষ্টি-কালচার, সব কিছুই এই ওল্ড টাউনে থেকেই জেনে নিতে পারবেন। ভিলনিয়াসের গল্প আরেকদিন, তবে এই শহরেই যে একটা পুর্ণাঙ্গ দেশ আছে সেটা জানতাম না। দেশটার নাম দ‍্য রিপাবলিক অব উযূপিস (The Republic of Užupis) যারা কিনা ১৯৯৭ সালের পহেলা এপ্রিল নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে।
এদের নিজস্ব সংবিধান আছে, পার্লামেন্ট ও আছে। সংবিধানের বিষয়ে পরে বলছি, পার্লামেন্ট হাউজটা নিয়ে বলি। পার্লামেন্ট হচ্ছে একটা মদের বারে। সেখানেই সবাই বসে। সেটিকে ওরা বলে বার্লামেন্ট (Bar-liament)| দেশটির নিজস্ব যে পতাকা সেটাতে একটি হাত দেখা যায়, যা কিনা পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় বুঝায়, আর হাতের ভেতর সার্কেলটাতে বোঝায় আপনার ভেতরের সৃজনশীলতায় পৃথিবী জয় করা কোন বিষয় না।
শুরুতেই ছবিতে যেই বোর্ডটা দেখছেন আমার পেছনে, ৪ টা সিম্বল আছে খেয়াল করলে দেখবেন! প্রথমটার মানে হচ্ছে, এইখানে হাসিখুশি থাকতে হবে, দ্বিতীয় সিম্বলটা খেয়াল করলে দেখবেন, গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা এই দেশে ২০ কিমি/ঘন্টা, তৃতীয়তে মোনালিসার একটা ছবি, যেটাতে বোঝায়, আর্টকে সম্মান করতে হবে, কারণ পুরো দেশেই আর্টে ভরপুর, আর চতুর্থ, অবশ‍্যই গাড়ি নদীতে চালাবেন না, ওকে!
ভিলনিয়া নদীর উপর ব্রিজ পেরিয়েই উযূপিসে ঢুকতে হবে। উযূপিস শব্দের অর্থই beyond the river অথবা on the other side of the river.অর্থাৎ ভিলনিয়া নদীর অপর পাশটাই উযূপিস। এদের সংবিধানে চারটা গুরুত্বপূর্ণ অধ‍্যায় আছে। সকলের সুখী হবার অধিকার, সকলের ভুল করার অধিকার, একটা কুকুরের কুকুর হবার অধিকার, আর প্রত‍্যেকেরই বিড়ালকে ভালোবাসার এবং যত্নের অধিকার রয়েছে।
একটা অদ্ভুত দেশ, ঢুকতেই ইমিগ্রেশন সেন্টার আছে। আমি সিলও নিলাম, অযাচিত ভিসা স্ট‍্যাম্প কয়েকটি দেশে জটিলতা সৃষ্টি করে, তাই পাসপোর্টে সিল নেইনি। তবে, ব‍্যক্তিগত ডায়েরীতে নিয়েছি অনুরোধ করে। ইমিগ্রেশান সেন্টারের ভেতরের ঘড়িটাও একটু দেখবেন। ভিলনিয়া নদীর উপরের ব্রিজের ঠিক নিচেই আছে একটা দোলনা, চাইলে ঠান্ডা হাওয়ার পা ডুবিয়ে দোল খেতে পারেন।
ছবিতে ঘুরে দেখতে পারেন ছোট্ট দেশটি। এতটা আর্টিস্টিক একটা দেশ, যেখানে প্রতিটি বিল্ডিং, দেয়াল গ্রাফিতি দিয়ে ভরা, রসিকতা এবং সৃজনশীলতা আমার দেখা হয়নি।