
হুট করেই মনে হলো সবচেয়ে বেশি লেখা স্কুল জীবনে রচনা হলো বাংলায় অধ্যবসায়, আমার কথা বলছি। কিন্তু একদিন ভিন্নতার কারণে লিখতে হলো গ্রাম্য মেলা। আমার লেখা সেই গ্রাম্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, একটা নদীর পাশে, বিশাল বটবৃক্ষের নীচে। একপাশে নদী, আর বটের ছায়ায় নানা রকম আয়োজন। দৃশ্যটা কল্পনা করলেই একটা স্নিগ্ধ পরিবেশের কথা মনে পড়ে যেখানে রোদ লুকোতে লুকোতে সন্ধ্যায় সূর্য ডুবে যায় নদীতে, আর নদীর পাশে বটবৃক্ষের নীচে ছোট ছোট দোকানগুলিতে জ্বলে উঠে কুপি বাতি।
কুপি বাতি চলে কেরোসিনে। এই দৃশ্য আমার ভাবনায় আনা, আমার ভেবে তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য। যে দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি। সময়টা গড়াতে গড়াতে পার করে ফেলেছি আরো দশ বছর। এই দশ বছর পর ও আমি দৃশ্যটা খুঁজি। হয়তো আজ থেকে বেঁচে থাকলে আরো বিশ বছর পরও এই দৃশ্য খুঁজব। এই দৃশ্য আমাকে ভীষণভাবে আটকে দেয়। আবছা আলোয় কুপিবাতি জ্বলছে, লাল আলো। মানুষগুলো এদিক সেদিক ছুটছে, সবচেয়ে বেশি ভীড় মিষ্টার্নের দোকানে।
পরশু রাতে প্রচন্ড বুক ব্যাথায় যখন কাতরাচ্ছি, তখন খুব অল্প সময়ের জন্য মনে হলো সকালটা আমার দেখা হবেনা। ব্যাথা আর ভয় দুটো একসাথে বেড়ে গেল। কিছুটা সুস্থ হবার পর বারবার মনে হচ্ছে এই যে এত চাওয়া, এত ইচ্ছে সব কিছু না হলে হয়তো কষ্ট পাবনা, কিন্তু তুচ্ছ কুপিবাতির মেলা আমাকে যে তৃপ্তি দিবে সেটা আমি কোথায় গিয়ে পাব?
কোথায় গেলে এমন কুপিবাতির লাল আলো ঘেরা পরিবেশ পাওয়া যায়? যার চারদিকে ঐইটুকুন জায়গা ছাড়া সব অন্ধকার?